হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল, কিরগিজস্তানে ইরানের দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে রাজধানী বিশকেকের রামাদা হোটেলে ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর ওফাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর জীবন নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যের রুশ ভাষার ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
বিপ্লব-পরবর্তী ইরানের অগ্রযাত্রা
কিরগিজস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেইন ইয়াদেগারি বলেন, ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান আট বছরের আরোপিত যুদ্ধ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী অস্থিরতা সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, “শহীদ নেতার নেতৃত্বকালে বিপ্লবের চারাগাছ একটি শক্তিশালী বৃক্ষে পরিণত হয় এবং ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের একতরফা নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যেও দেশ গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।”
তিনি বিপ্লবী নেতাদের কয়েকটি অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরেন:
- সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহসিকতা এবং শত্রুর হুমকি ও রাজনৈতিক চাপকে ভয় না পাওয়া;
- আল্লাহর ওপর ভরসা এবং কোরআন ও ইসলামের নির্দেশনার আলোকে নেতৃত্ব প্রদান;
- জনগণকে দেশের মূল ভিত্তি ও প্রকৃত মালিক হিসেবে বিবেচনা করা;
- কৌশলগত ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি;
- নেতৃত্বের বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ধারাবাহিক সহযোগিতা বজায় রাখা।
বিপ্লবী নেতৃত্বের চিন্তায় প্রতিরোধের দর্শন
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজা দেহশিরি বলেন, ইসলামী বিপ্লবের দুই নেতার দৃষ্টিভঙ্গিতে “প্রতিরোধের চিন্তা” সাতটি মৌলিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত:
১. জনগণনির্ভর প্রতিরোধ
২. নেতৃত্বকেন্দ্রিক আনুগত্য
৩. আধ্যাত্মিকতা
৪. ন্যায়বিচারকেন্দ্রিকতা
৫. প্রতিরোধ ফ্রন্টের নেটওয়ার্কভিত্তিক কাঠামো
৬. শত্রুর মোকাবিলায় যুক্তিবাদ ও হিসাবনির্ভরতা
৭. সভ্যতা নির্মাণ
তিনি বলেন, এই দর্শন ইরানকে বিভিন্ন চাপ ও যুদ্ধের মুখে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ন্যায়সঙ্গত বিশ্বব্যবস্থার জন্য সংগ্রামে ইরান
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলিকবেক জেকশেনকুলভ বলেন, ইরান ও কিরগিজস্তানের সম্পর্ক সবসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে এবং বর্তমানে ইরান ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনের আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ পশ্চিমা আধিপত্যবাদী নীতির প্রকৃত চরিত্র উন্মোচন করেছে এবং বিশ্ব এখন ধীরে ধীরে একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও সামরিক ক্ষেত্রে পশ্চিমের একচেটিয়া আধিপত্যের চ্যালেঞ্জ
আসন আলিয়েভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যে পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব অজেয় নয়।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ বিশ্বের কাঠামো গড়ে উঠবে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত জোটের ভিত্তিতে এবং ইউরেশিয়া অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হবে ইরান।
শহীদ নেতাদের পরেও জাতীয় সংহতি
নুরলান দোসালিয়েভ বলেন, ইরানের নেতাদের শাহাদাত দেশের দুর্বলতার কারণ হয়নি; বরং জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং ইরান তার প্রতিরক্ষা কাঠামো আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে।
ইসমাইল দাইরভ বলেন, ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থা আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ ও পশ্চিমা আধিপত্যমূলক ব্যবস্থার মধ্যকার প্রতিযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে এবং এশিয়া বৈশ্বিক পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।
অন্যদিকে সের্গেই কোঝমিয়াতকিন মন্তব্য করেন, ইরানের প্রতিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং বিশ্ব ক্রমেই বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আপনার কমেন্ট